বাংলা ব্যাকরণ: শব্দ — শ্রেণিবিভাগ, উদাহরণ ও BCS প্রস্তুতি

বাংলা ব্যাকরণ: শব্দ — শ্রেণিবিভাগ, উদাহরণ ও BCS প্রস্তুতি

Admin | অক্টোবর ০৫, ২০২৬ | বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
বাংলা ব্যাকরণ: শব্দ — শ্রেণিবিভাগ, উদাহরণ ও BCS প্রস্তুতি
বাংলা ব্যাকরণ: শব্দ — শ্রেণিবিভাগ, উদাহরণ ও BCS প্রস্তুতি
BCS বাংলা ব্যাকরণ

বাংলা ব্যাকরণ: শব্দ

শব্দের শ্রেণিবিভাগ, উৎপত্তি, গঠন, অর্থ ও BCS-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — একটি আর্টিকেলেই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি।

শব্দ কী? বাংলা ব্যাকরণের সবচেয়ে মৌলিক অথচ সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর অধ্যায়গুলোর একটি হলো "শব্দ"। একটি শব্দকে কখন তৎসম, কখন তদ্ভব, কখন দেশি বা বিদেশি বলা হয়? আবার একই শব্দকে কখনো মৌলিক, কখনো সাধিত, কখনো রূঢ় বা যোগরূঢ় বলা হয় কেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্টভাবে না জানলে BCS পরীক্ষার হলে গিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া প্রায় নিশ্চিত — কারণ শব্দকে একইসঙ্গে একাধিক দৃষ্টিকোণ (উৎপত্তি, গঠন, অর্থ) থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়, আর পরীক্ষায় "কোন দিক থেকে" জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তা বুঝেই উত্তর দিতে হয়।

বাংলা ব্যাকরণের "শব্দ" অধ্যায় BCS প্রিলিমিনারি ও প্রায় সব সরকারি চাকরির পরীক্ষায় নিয়মিত আসে — তৎসম/তদ্ভব শনাক্তকরণ, রূঢ়-যোগরূঢ়-যৌগিকের পার্থক্য, সমার্থক-বিপরীতার্থক শব্দ ইত্যাদি প্রশ্ন প্রায় প্রতি পরীক্ষাতেই দেখা যায়। এই আর্টিকেলে সংজ্ঞা, উদাহরণ, তুলনামূলক টেবিল, Confusing Facts ও MCQ অনুশীলনসহ পুরো অধ্যায়টি গুছিয়ে দেওয়া হলো।

📌 এক নজরে — শব্দ

বিষয়গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
শব্দঅর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি
উৎপত্তি অনুসারেতৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি
গঠন অনুসারেমৌলিক, সাধিত
অর্থ/ব্যবহার অনুসারেযৌগিক, রূঢ়, যোগরূঢ়
তৎসমসংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিতভাবে আগত শব্দ
অর্ধ-তৎসমসংস্কৃত শব্দের সামান্য পরিবর্তিত রূপ
তদ্ভবসংস্কৃত থেকে প্রাকৃত হয়ে রূপান্তরিত বাংলা শব্দ
দেশিমূল অনার্য/আঞ্চলিক উৎসের শব্দ
বিদেশিআরবি, ফারসি, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষা থেকে আগত
মৌলিকভাগ করা যায় না এমন একক শব্দ
সাধিতউপসর্গ/প্রত্যয়/সমাসযোগে গঠিত শব্দ
রূঢ়ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রচলিত অর্থে না খাটা শব্দ
যোগরূঢ়সমষ্টিগত অর্থ থেকে নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থ বহনকারী শব্দ
BCS গুরুত্বঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — প্রায় প্রতি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে

শব্দ কাকে বলে?

প্রচলিত ও পরীক্ষায় গৃহীত সংজ্ঞা অনুসারে: একটি বা একাধিক ধ্বনি বা বর্ণ মিলে যখন কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে শব্দ বলে।

📌 সহজভাবে: অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলা হয়। যেমন — "মা", "বই", "বিদ্যালয়" — প্রতিটিই একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ বহন করে বলে এগুলো শব্দ। কিন্তু "ক", "ট" এককভাবে কোনো অর্থ বহন করে না বলে এগুলো শব্দ নয়, বর্ণ।

শব্দ, বর্ণ ও পদ — পার্থক্য

বিষয়শব্দবর্ণপদ
কীঅর্থবোধক ধ্বনি/ধ্বনিসমষ্টিভাষার ক্ষুদ্রতম লিখিত/ধ্বনিগত এককবাক্যে ব্যবহৃত, বিভক্তিযুক্ত শব্দ
অর্থস্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করেএককভাবে অর্থ প্রকাশ করে নাবাক্যে নির্দিষ্ট ব্যাকরণিক ভূমিকা পালন করে
বাক্যে ভূমিকাবাক্যের কাঁচামাল, বিভক্তি ছাড়াশব্দ গঠনের উপাদানবিভক্তি/অনুসর্গযুক্ত, বাক্যে সরাসরি ব্যবহৃত রূপ
উদাহরণবই, গাছ, স্কুলক, খ, গ, অ, আবইটি, গাছে, স্কুলের
🎯 BCS Trap: "শব্দ" ও "পদ" প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়। শব্দ হলো অভিধানে থাকা মৌলিক রূপ (যেমন: বই), আর পদ হলো বাক্যে বিভক্তিযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত রূপ (যেমন: বইটি, বইয়ে)। "বাক্যে ব্যবহৃত শব্দই পদ" — এই বাক্যাংশটি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

একটি শব্দকে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় — উৎপত্তি, গঠন এবং অর্থ/ব্যবহার অনুসারে। এই তিনটি ভিত্তি সম্পূর্ণ আলাদা, তাই একই শব্দ একদিক থেকে এক রকম এবং অন্যদিক থেকে অন্য রকম শ্রেণিতে পড়তে পারে।

শব্দ
উৎপত্তি অনুসারেতৎসম · অর্ধ-তৎসম · তদ্ভব · দেশি · বিদেশি
গঠন অনুসারেমৌলিক · সাধিত
অর্থ/ব্যবহার অনুসারেযৌগিক · রূঢ় · যোগরূঢ়

"শব্দের শ্রেণিবিভাগ — এক নজরে" Master Table

ভিত্তিপ্রধান শ্রেণি
উৎপত্তিতৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি
গঠনমৌলিক, সাধিত
অর্থ/ব্যবহাররূঢ়, যোগরূঢ়, যৌগিক
অর্থগত সম্পর্কসমার্থক, বিপরীতার্থক, বহুঅর্থক, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নোট: একটি শব্দকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন শ্রেণিতে ফেলা যেতে পারে। যেমন কোনো শব্দ উৎপত্তির দিক থেকে তৎসম হলেও গঠনের দিক থেকে সাধিত, আবার অর্থের দিক থেকে যৌগিক হতে পারে। তাই প্রশ্নে "কোন দিক থেকে?" তা আগে বুঝে নেওয়া জরুরি — এটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

উৎপত্তি অনুসারে শব্দ

উৎস ভাষার ভিত্তিতে বাংলা শব্দকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি।

১. তৎসম শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে অপরিবর্তিত রূপে সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে, সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। "তৎসম" শব্দের অর্থ "তার (সংস্কৃতের) সমান/তুল্য"।

বৈশিষ্ট্যব্যাখ্যা
উৎসসরাসরি সংস্কৃত
রূপ পরিবর্তনউচ্চারণে সামান্য পার্থক্য হলেও বানান/রূপ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যবহারসাধু রীতি ও আনুষ্ঠানিক ভাষায় বেশি ব্যবহৃত

উদাহরণ: চন্দ্র, সূর্য, নদী, পৃথিবী, বৃক্ষ, ভ্রাতা, কন্যা, পদ্ম, রাত্রি, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, জল, গৃহ, বিদ্যালয়, মনুষ্য, ভগিনী, গৃহিণী, পুষ্প, হস্ত।

📌 BCS Focus: চন্দ্র, সূর্য, রাত্রি, পৃথিবী, অগ্নি, বায়ু — এই শব্দগুলো তৎসম বনাম তদ্ভব শনাক্তকরণ প্রশ্নে বারবার আসে।

২. অর্ধ-তৎসম শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব সংস্কৃত (তৎসম) শব্দ সামান্য পরিবর্তিত বা কিছুটা অপভ্রংশ রূপে বাংলায় ব্যবহৃত হয়, অথচ সম্পূর্ণ তদ্ভবে রূপান্তরিত হয়নি, সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। এগুলো মূলত মুখের ভাষায় সংস্কৃত শব্দের সরলীকৃত উচ্চারণ থেকে এসেছে বলে তদ্ভব নয়, বরং তৎসম ও তদ্ভবের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।

তৎসমঅর্ধ-তৎসম
গৃহিণীগিন্নি
জ্যোৎস্নাজোছনা
শ্রাদ্ধছেরাদ্দ
কুৎসিতকুচ্ছিত
গ্রামগেরাম
জন্মজনম
ধর্মধরম
সত্যসত্যি
বৈদ্যবদ্যি
বৈষ্ণববোষ্টম
🎯 BCS Trap: অর্ধ-তৎসম শব্দকে অনেকে ভুলবশত তদ্ভব ভেবে ফেলেন। মনে রাখুন — তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত-অপভ্রংশ হয়ে সম্পূর্ণ রূপান্তরের দীর্ঘ ভাষাবৈজ্ঞানিক পথ পেরিয়ে বাংলায় এসেছে, কিন্তু অর্ধ-তৎসম শব্দ মূল তৎসম রূপের সামান্য (সাধারণত উচ্চারণগত) পরিবর্তন মাত্র।

৩. তদ্ভব শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ/অবহট্ঠ ধারা পেরিয়ে ধ্বনিগত রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলায় এসেছে, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে। "তদ্ভব" অর্থ "তা থেকে উদ্ভূত"।

সংস্কৃত
↓
প্রাকৃত
↓
অপভ্রংশ / অবহট্ঠ
↓
বাংলা (তদ্ভব শব্দ)

উদাহরণ: হাত (হস্ত), চাঁদ (চন্দ্র), চোখ (চক্ষু), কান (কর্ণ), দুধ (দুগ্ধ), আগুন (অগ্নি), হাড় (অস্থি), বাঘ (ব্যাঘ্র), সাপ (সর্প), হাট (হট্ট), গাছ (বৃক্ষ থেকে নয়, স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত), ফুল, মুখ।

📌 মনে রাখুন: তদ্ভব শব্দ চেনার একটি সহজ উপায় হলো এর তৎসম প্রতিরূপের সঙ্গে তুলনা করা — হাত↔হস্ত, চোখ↔চক্ষু — উচ্চারণ ও বানান দুই-ই সহজ ও সংক্ষিপ্ত হয়েছে।

৪. দেশি শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দ সংস্কৃত বা বিদেশি কোনো ভাষা থেকে না এসে বাংলার নিজস্ব আঞ্চলিক/আদি উৎস (অনার্য, প্রাক-আর্য জনগোষ্ঠীর ভাষা) থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়, সেগুলোকে দেশি শব্দ বলে।

দেশি শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎস (দ্রাবিড়, অস্ট্রিক বা অন্য কোনো প্রাক-আর্য ভাষাগোষ্ঠী) নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে গবেষণা চলমান — তাই কোনো নির্দিষ্ট দেশি শব্দের উৎস নিয়ে অতিরিক্ত নিশ্চিত দাবি করা ঠিক নয়।

উদাহরণ: ঢেঁকি, কুলা, ডাব, ডাগর, খোকা, পেট, ঝোল, চাল, ডিঙি, কুড়ি, চোঙা, ছুরি, ঝিঙা, ঢোল।

📌 BCS Focus: ঢেঁকি, কুলা, ডাব, খোকা — এই শব্দগুলো দেশি বনাম তদ্ভব শনাক্তকরণ প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. বিদেশি শব্দ

বিভিন্ন বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দগুলো তাদের উৎসভাষা অনুযায়ী নিচে ভাগ করে দেখানো হলো।

ভাষাশব্দ (উদাহরণ)
আরবিআল্লাহ, ইসলাম, কোরআন, ঈদ, হজ, জান্নাত, দোজখ, উকিল, কানুন, তারিখ, আদালত, মহকুমা, দুনিয়া, হাকিম, ওয়াক্ফ
ফারসিনামাজ, রোজা, খোদা, দারোগা, দোকান, বাজার, আদমি, চশমা, জাদু, রঙ, দফতর, জমিদার, বেগম, চাকর, বাবুর্চি, গোলাপ
তুর্কিবাবা, বেগম, বাহাদুর, চাকু, তোপ, কুলি, উর্দু, কাঁচি
পর্তুগিজআলমারি, আনারস, আলপিন, বালতি, বোতাম, চাবি, গির্জা, পাউরুটি, পেরেক, তোয়ালে, কামরা
ইংরেজিস্কুল, কলেজ, পেন্সিল, চেয়ার, টেবিল, বাস, ট্রেন, অফিস, হাসপাতাল, ডাক্তার, পুলিশ, ব্যাংক, রেডিও, টিকিট
ফরাসিরেস্তোরাঁ, কার্তুজ, ডিপো (সীমিত সংখ্যক, স্বীকৃত উৎস অনুযায়ী)
⚠️ বিদেশি শব্দ চেনার Shortcut নিয়ে সতর্কতা: কিছু শব্দে উৎসভাষার বৈশিষ্ট্য অনুমান করা যায়, কিন্তু শুধু বানান বা উচ্চারণ দেখে সবসময় নির্ভুলভাবে উৎস নির্ধারণ করা যায় না। যেমন "নামাজ", "রোজা", "দারোগা" আরবি নয়, ফারসি — এই ধরনের ভুল প্রায়ই হয়। তাই শব্দভান্ডার মুখস্থ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

গঠন অনুসারে শব্দ

১. মৌলিক শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দকে আর ভেঙে ছোট কোনো অর্থবহ অংশে বিভক্ত করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। এগুলো ভাষার একক, স্বাধীন ও মূল উপাদান।

উদাহরণ: হাত, পা, মা, বাবা, গাছ, ফুল, নাক, চোখ, বই, ঘর।

২. সাধিত শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দ মৌলিক শব্দ বা धातুর সঙ্গে উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসযোগে নতুনভাবে গঠিত হয়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।

উপসর্গযোগে সাধিত

উপসর্গ + মূল শব্দ = নতুন শব্দ। যেমন: প্র+বেশ=প্রবেশ, বি+দ্যালয়=বিদ্যালয়, সু+ফল=সুফল।

প্রত্যয়যোগে সাধিত

মূল শব্দ/ধাতু + প্রত্যয় = নতুন শব্দ। যেমন: ডাকাত+ই=ডাকাতি, গায়ক (গৈ+ণক), লেখক (লিখ্+অক)।

সমাসযোগে সাধিত

একাধিক পদ মিলে সংক্ষিপ্ত নতুন পদ। যেমন: রাজার পুত্র → রাজপুত্র, বই ও খাতা → বইখাতা।

📌 নোট: বিভিন্ন ব্যাকরণগ্রন্থে সাধিত শব্দের উপবিভাগের পরিভাষা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে (কোথাও সমাসকে "যৌগিক গঠন" হিসেবেও আলোচনা করা হয়) — মূল ধারণাটি অভিন্ন থাকলেও পরীক্ষায় প্রশ্নের প্রেক্ষাপট বুঝে উত্তর দেওয়া জরুরি।

অর্থ ও ব্যবহার অনুসারে শব্দ: রূঢ়, যোগরূঢ়, যৌগিক

যৌগিক শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়গত (ব্যুৎপত্তিগত) অর্থ এবং প্রচলিত ব্যবহারিক অর্থ একই থাকে, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে — অর্থাৎ শব্দের উপাদানগুলোর অর্থের সমষ্টি থেকেই পুরো শব্দের অর্থ বোঝা যায়।

উদাহরণ: গায়ক (গৈ+ণক = যে গান করে), কর্তা (√কৃ+তৃচ = যে করে), পাঠক (যে পাঠ করে), মিতালি (মিত্রের ভাব)।

রূঢ় শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত (প্রকৃতি-প্রত্যয়গত) অর্থ প্রচলিত ব্যবহারিক অর্থে খাটে না, বরং শব্দটি একটি নির্দিষ্ট বস্তু বা ভাব বোঝাতে প্রচলিত/প্রথাগত অর্থে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে রূঢ় শব্দ বলে।

উদাহরণ: হস্তী — ব্যুৎপত্তিগতভাবে "যার হাত (শুঁড়) আছে", কিন্তু হাত-জাতীয় অঙ্গ থাকা সব প্রাণীকে হস্তী বলা হয় না, শুধু নির্দিষ্ট প্রাণী (হাতি)-কেই বলা হয় — তাই এটি রূঢ় শব্দ।

যোগরূঢ় শব্দ

সংজ্ঞা: যেসব শব্দ একাধিক অংশ যুক্ত হয়ে (সমাসবদ্ধ/যৌগিক গঠনে) তৈরি, কিন্তু তার ব্যুৎপত্তিগত সমষ্টিগত অর্থ থেকে সরে গিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট, বিশেষ অর্থ ধারণ করে, সেগুলোকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।

📚 ক্লাসিক উদাহরণ:

পঙ্কজ = পঙ্কে (কাদায়) জন্মে যা — আক্ষরিক অর্থে কাদায় জন্মানো অনেক কিছুই (শৈবাল, ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ ইত্যাদি) থাকতে পারে, কিন্তু শব্দটি ব্যবহারিক অর্থে শুধুই "পদ্মফুল" বোঝায় — তাই এটি যোগরূঢ় শব্দের আদর্শ উদাহরণ।

অন্যান্য উদাহরণ: জলধি (জল ধারণ করে এমন সবকিছু নয়, নির্দিষ্টভাবে "সমুদ্র"), রাজপুত (আক্ষরিক অর্থে রাজার পুত্র, কিন্তু বিশেষ অর্থে একটি জাতি/সম্প্রদায়)।

যৌগিক বনাম যোগরূঢ়

বিষয়যৌগিকযোগরূঢ়
অর্থউপাদানগুলোর অর্থের সমন্বয়সমন্বিত অর্থ থেকে সরে গিয়ে বিশেষ অর্থ
উদাহরণগায়ক, কর্তা, পাঠকপঙ্কজ, জলধি

রূঢ় বনাম যোগরূঢ় বনাম যৌগিক — Super Comparison Table

বৈশিষ্ট্যরূঢ়যোগরূঢ়যৌগিক
গঠনসাধারণত একক প্রকৃতি-প্রত্যয়সিদ্ধ শব্দএকাধিক অংশ যুক্ত (সমাসবদ্ধ) শব্দপ্রকৃতি-প্রত্যয় বা সমাসযোগে গঠিত শব্দ
অর্থব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রচলিত অর্থে খাটে নাসমষ্টিগত অর্থ থেকে একটি নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থে সীমিতব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন
উপাদানের অর্থপ্রাসঙ্গিক নয়আংশিকভাবে প্রাসঙ্গিক, তবে সীমিত অর্থেসম্পূর্ণভাবে প্রাসঙ্গিক
উদাহরণহস্তীপঙ্কজ, জলধিগায়ক, কর্তা, পাঠক
BCS Trapমৌলিক শব্দ ভেবে ভুল করা হয়যৌগিক ভেবে ভুল করা হয়যোগরূঢ় ভেবে ভুল করা হয়

অর্থ অনুসারে শব্দ (অর্থগত সম্পর্ক)

সমার্থক শব্দ

একই বা প্রায় একই অর্থ বহন করে এমন শব্দগুচ্ছকে সমার্থক শব্দ বলে। তবে প্রসঙ্গভেদে অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে — তাই এগুলোকে সবসময় সম্পূর্ণ অভিন্ন অর্থবাহী (absolute synonym) হিসেবে না দেখাই ভালো।

শব্দসমার্থক শব্দ
সূর্যরবি, ভানু, দিনকর, প্রভাকর, আদিত্য, তপন, অর্ক
জলপানি, বারি, নীর, সলিল, অম্বু, উদক
চন্দ্রশশী, বিধু, সুধাংশু, ইন্দু, শশাঙ্ক
নদীতটিনী, তরঙ্গিণী, সরিতা
সমুদ্রসাগর, জলধি, বারিধি, অর্ণব, রত্নাকর
পৃথিবীধরা, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, অবনী, মেদিনী
বায়ুসমীর, পবন, অনিল, মারুত, বাতাস
অগ্নিআগুন, অনল, পাবক, বহ্নি
রাজানৃপতি, ভূপতি, নরপতি, মহীপাল
নারীরমণী, মহিলা, বনিতা, ললনা
পাখিবিহঙ্গ, খগ, পক্ষী
বনঅরণ্য, কানন, বিপিন, জঙ্গল

বিপরীতার্থক শব্দ

শব্দবিপরীতার্থক
আলোঅন্ধকার
সুখদুঃখ
জীবনমৃত্যু
আশানিরাশা
জয়পরাজয়
দিনরাত
ভালোমন্দ
উঁচুনিচু
গরমঠান্ডা
ধনীদরিদ্র
প্রিয়অপ্রিয়
স্বাধীনপরাধীন
শান্তঅশান্ত
সত্যমিথ্যা
ন্যায়অন্যায়

বহুঅর্থক শব্দ

শব্দঅর্থ ১অর্থ ২অর্থ ৩
কালসময়গতকালমৃত্যু (কাব্যিক অর্থে)
হাতদেহাঙ্গদক্ষতাঅধিকার/সাহায্য
মাথাদেহাঙ্গশীর্ষ/চূড়ানেতা/প্রধান
ফলবৃক্ষের ফলপরিণতিলাভ
করহাতরাজস্ব/ট্যাক্সরশ্মি

সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ

যেসব শব্দের উচ্চারণ একই বা প্রায় একই, কিন্তু অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন, সেগুলোকে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ বলে।

শব্দ ১অর্থশব্দ ২অর্থ
অলিভ্রমরঅলিগলি/সরু পথ
কালসময়কালকৃষ্ণ/কালো বর্ণ
ধরাপৃথিবীধরাগ্রেফতার হওয়া/স্পর্শ করা
নীরজলনীড়পাখির বাসা
🎯 BCS Trap: "নীর" (জল) ও "নীড়" (বাসা) — বানান-উচ্চারণে সামান্য পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলেন। এই জাতীয় শব্দজোড় আলাদা করে মুখস্থ রাখা জরুরি।

শব্দের অর্থ পরিবর্তন

১. অর্থের প্রসার

যে শব্দের আদি সংকীর্ণ অর্থ কালক্রমে ব্যাপক হয়ে যায়। উদাহরণ: "তৈল" — মূলত তিল থেকে তৈরি জিনিস অর্থে ব্যবহৃত হতো, এখন যেকোনো ধরনের তেলকেই বোঝায়।

২. অর্থের সংকোচ

যে শব্দের আদি ব্যাপক অর্থ কালক্রমে সংকীর্ণ/নির্দিষ্ট হয়ে যায়। উদাহরণ: "পঙ্কজ" — কাদায় জন্মানো সবকিছু বোঝানোর বদলে শুধু পদ্মফুল অর্থে সীমিত হয়েছে।

৩. অর্থের উন্নতি

যে শব্দের অর্থ কালক্রমে সাধারণ/নিম্ন অবস্থান থেকে উচ্চতর/সম্মানজনক অর্থে রূপান্তরিত হয়। উদাহরণ (প্রচলিত মত): "সচিব" — মূলত ব্যক্তিগত সহচর/সঙ্গী অর্থে ব্যবহৃত হতো, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

৪. অর্থের অবনতি

যে শব্দের অর্থ কালক্রমে উচ্চ/সম্মানজনক অবস্থান থেকে সাধারণ বা কিছুটা নিম্ন অর্থে পরিণত হয়। এই শ্রেণির নির্দিষ্ট উদাহরণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাকরণগ্রন্থে ভিন্ন মত থাকতে পারে, তাই পাঠ্যপুস্তকের নির্দিষ্ট উদাহরণ অনুসরণ করাই নিরাপদ।

৫. অর্থের পরিবর্তন: কোনো কোনো শব্দের মূল অর্থ সম্পূর্ণভাবে পালটে গিয়ে ভিন্ন অর্থে স্থায়ী হয়ে যায় — একে অর্থের সামগ্রিক পরিবর্তন বলা হয়।

⚠️ সতর্কতা: অর্থের উন্নতি/অবনতির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ নিয়ে বিভিন্ন পাঠ্যবই ও গাইডে ভিন্নতা দেখা যায় — এই আর্টিকেলে শুধু ব্যাপকভাবে গৃহীত উদাহরণই দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার জন্য মূল ধারণা (সংজ্ঞা) নিশ্চিতভাবে জানা এবং আপনার পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট উদাহরণ যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দ চেনার Formula (Decision Flow)

শব্দটি দেখুন
↓
প্রশ্নে "উৎপত্তি" জিজ্ঞাসা করা হয়েছে?
↓ হ্যাঁ হলে
তৎসম / অর্ধ-তৎসম / তদ্ভব / দেশি / বিদেশি নির্ধারণ করুন
↓ না হলে, "গঠন" জিজ্ঞাসা করা হলে
উপসর্গ/প্রত্যয়/সমাস আছে কি? থাকলে সাধিত, না থাকলে মৌলিক
↓ "অর্থ/ব্যবহার" জিজ্ঞাসা করা হলে
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থ মিলছে কি? — রূঢ় / যোগরূঢ় / যৌগিক নির্ধারণ করুন
🎯 Exam Tip: প্রশ্নে ব্যবহৃত শব্দটি খেয়াল করুন — "উৎপত্তিগতভাবে", "গঠনগতভাবে" নাকি "অর্থগতভাবে" জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তা প্রথমে নির্ধারণ করুন, তারপর সংশ্লিষ্ট শ্রেণিবিভাগ প্রয়োগ করুন।

🔥 BCS-এর জন্য শব্দ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ VVI তথ্য

  • 1তৎসম — সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে আগত শব্দ
  • 2অর্ধ-তৎসম — তৎসমের সামান্য পরিবর্তিত রূপ (যেমন: গিন্নি)
  • 3তদ্ভব — সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত-অপভ্রংশ হয়ে রূপান্তরিত শব্দ
  • 4দেশি — আদি অনার্য/আঞ্চলিক উৎসের শব্দ
  • 5বিদেশি — আরবি, ফারসি, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষা থেকে আগত
  • 6মৌলিক — ভাগ করা যায় না এমন একক শব্দ
  • 7সাধিত — উপসর্গ/প্রত্যয়/সমাসযোগে গঠিত
  • 8রূঢ় — ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রচলিত অর্থে না খাটা শব্দ (যেমন: হস্তী)
  • 9যোগরূঢ় — সমষ্টিগত অর্থ থেকে বিশেষ অর্থ (যেমন: পঙ্কজ)
  • 10যৌগিক — ব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন (যেমন: গায়ক)
  • 11শব্দ বনাম পদ — বিভক্তিযুক্ত রূপই পদ
  • 12নামাজ, রোজা, দারোগা — ফারসি শব্দ, আরবি নয়
  • 13আলমারি, বালতি, চাবি — পর্তুগিজ শব্দ
  • 14বাবা, বেগম, বাহাদুর — তুর্কি শব্দ
  • 15পঙ্কজ শব্দের বিশেষ অর্থ — পদ্মফুল
  • 16হস্তী শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ব্যবহারিক অর্থে খাটে না — রূঢ় শব্দ
  • 17তৈল শব্দে অর্থের প্রসার ঘটেছে
  • 18পঙ্কজ শব্দে অর্থের সংকোচ ঘটেছে
  • 19নীর (জল) ও নীড় (বাসা) — সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দজোড়
  • 20সমার্থক শব্দে প্রসঙ্গভেদে সূক্ষ্ম অর্থপার্থক্য থাকতে পারে
  • 21হাত, পা, মা, বাবা — মৌলিক শব্দের উদাহরণ
  • 22বিদ্যালয়, প্রবেশ — উপসর্গযোগে সাধিত শব্দ
  • 23গায়ক, লেখক — প্রত্যয়যোগে সাধিত ও যৌগিক শব্দের উদাহরণ
  • 24দেশি শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎস নিয়ে গবেষণা চলমান
  • 25একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন শ্রেণিতে পড়তে পারে

⚠️ পরীক্ষার্থীদের Common Mistake

ভুল ধারণা: তদ্ভব ও দেশি শব্দ একই জিনিস।
সঠিক ধারণা: তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে রূপান্তরিত, দেশি শব্দ আদি অনার্য/আঞ্চলিক উৎসের — উৎসই সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভুল ধারণা: অর্ধ-তৎসম শব্দই তদ্ভব শব্দ।
সঠিক ধারণা: অর্ধ-তৎসম শব্দ মূল তৎসম রূপের সামান্য পরিবর্তন মাত্র, তদ্ভবের মতো দীর্ঘ ভাষাবিবর্তনের ফল নয়।
ভুল ধারণা: যোগরূঢ় শব্দই যৌগিক শব্দ।
সঠিক ধারণা: যৌগিকে ব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন থাকে, যোগরূঢ়ে সমষ্টিগত অর্থ থেকে সরে গিয়ে বিশেষ অর্থ তৈরি হয়।
ভুল ধারণা: রূঢ় শব্দই মৌলিক শব্দ।
সঠিক ধারণা: রূঢ় শব্দ অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, মৌলিক শব্দ গঠনগত শ্রেণিবিভাগ — দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিত্তিতে করা।
ভুল ধারণা: উৎস ও গঠন একই বিষয়।
সঠিক ধারণা: উৎপত্তি বলতে শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে বোঝায়, গঠন বলতে শব্দটি কীভাবে তৈরি হয়েছে (মৌলিক/সাধিত) বোঝায় — এই দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশ্ন।
ভুল ধারণা: শব্দ ও পদ অভিন্ন।
সঠিক ধারণা: অভিধানে থাকা রূপ শব্দ, বাক্যে বিভক্তিযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত রূপ পদ।
ভুল ধারণা: বানান দেখে বিদেশি শব্দের ভাষা নির্ভুলভাবে অনুমান করা যায়।
সঠিক ধারণা: কিছু আভাস পাওয়া গেলেও নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য শব্দভান্ডার যাচাই করাই নিরাপদ।
ভুল ধারণা: প্রশ্নে "উৎপত্তি অনুসারে" লেখা থাকলেও গঠন অনুসারে উত্তর দেওয়া যায়।
সঠিক ধারণা: প্রশ্নের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ভিত্তি (উৎপত্তি/গঠন/অর্থ) প্রয়োগ করতে হবে, নাহলে উত্তর ভুল হবে।
🧠 Memory Trick: "উৎপত্তি → কোথা থেকে এলো, গঠন → কীভাবে তৈরি হলো, অর্থ → কী বোঝায়" — এই তিন প্রশ্ন নিজেকে জিজ্ঞাসা করলেই শব্দের শ্রেণিবিভাগ গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

BCS-এ শব্দ অধ্যায় থেকে কীভাবে প্রশ্ন আসে?

  • 1শ্রেণি শনাক্ত: "নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?"
  • 2উৎসভাষা শনাক্ত: "কোনটি ফারসি শব্দ?"
  • 3তৎসম/তদ্ভব: "হস্ত-এর তদ্ভব রূপ কোনটি?"
  • 4দেশি/বিদেশি: "কোনটি দেশি শব্দ?"
  • 5রূঢ়/যোগরূঢ়: "পঙ্কজ কোন শ্রেণির শব্দ?"
  • 6মৌলিক/সাধিত: "কোনটি সাধিত শব্দ?"
  • 7অর্থের পরিবর্তন: "তৈল শব্দে কী ধরনের অর্থ পরিবর্তন ঘটেছে?"
  • 8সমার্থক: "সূর্যের সমার্থক শব্দ কোনটি নয়?"
  • 9বিপরীতার্থক: "ন্যায়-এর বিপরীত শব্দ কী?"
  • 10সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক: "নীর ও নীড়ের অর্থ কী?"
📌 যেসব সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন কোন সালের BCS পরীক্ষায় হুবহু এসেছে তা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় এখানে নির্দিষ্ট সাল উল্লেখ করা হলো না, যাতে ভুল তথ্য না ছড়ায়। প্রশ্নের ধরন (pattern) অনুশীলনই সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি কৌশল।

⚡ ৫ মিনিটে "শব্দ" Revision

  • সংজ্ঞা (৩০ সে.): অর্থবোধক ধ্বনি/ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলে
  • উৎপত্তি অনুসারে (১ মি.): তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি
  • গঠন অনুসারে (১ মি.): মৌলিক (ভাঙা যায় না), সাধিত (উপসর্গ/প্রত্যয়/সমাস)
  • অর্থ অনুসারে (১ মি.): সমার্থক, বিপরীতার্থক, বহুঅর্থক, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক
  • রূঢ়/যোগরূঢ়/যৌগিক (১ মি.): হস্তী = রূঢ়, পঙ্কজ = যোগরূঢ়, গায়ক = যৌগিক
  • VVI Words (৩০ সে.): নামাজ-ফারসি, আলমারি-পর্তুগিজ, বাবা-তুর্কি, স্কুল-ইংরেজি

MCQ অনুশীলন

Level 1 — Basic

প্রশ্ন ১

"তৎসম" শব্দের অর্থ কী?

  1. তার থেকে ভিন্ন
  2. তার সমান/তুল্য
  3. তার থেকে উদ্ভূত
  4. তার পরিবর্তিত রূপ
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: "তৎসম" অর্থ সংস্কৃতের সমান/তুল্য — অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিতভাবে আগত শব্দ।

প্রশ্ন ২

নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?

  1. চন্দ্র
  2. হাত
  3. বৃক্ষ
  4. নদী
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: "হাত" শব্দটি সংস্কৃত "হস্ত" থেকে প্রাকৃত-অপভ্রংশ হয়ে রূপান্তরিত তদ্ভব শব্দ।

প্রশ্ন ৩

"গিন্নি" কোন শ্রেণির শব্দ?

  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. অর্ধ-তৎসম
  4. দেশি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: "গিন্নি" শব্দটি তৎসম "গৃহিণী"-র সামান্য পরিবর্তিত রূপ, তাই অর্ধ-তৎসম।

প্রশ্ন ৪

"ঢেঁকি" কোন শ্রেণির শব্দ?

  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: "ঢেঁকি" আদি আঞ্চলিক/অনার্য উৎসের শব্দ বলে বিবেচিত, তাই এটি দেশি শব্দ।

প্রশ্ন ৫

"নামাজ" শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. ইংরেজি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: "নামাজ" ও "রোজা" শব্দদুটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে, আরবি থেকে নয়।

প্রশ্ন ৬

"আলমারি" কোন ভাষার শব্দ?

  1. ফারসি
  2. তুর্কি
  3. পর্তুগিজ
  4. ইংরেজি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: আলমারি, বালতি, চাবি, পাউরুটি — এই শব্দগুলো পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত।

প্রশ্ন ৭

মৌলিক শব্দ কাকে বলে?

  1. যে শব্দে উপসর্গ আছে
  2. যে শব্দ ভাঙা যায় না
  3. যে শব্দ সমাসবদ্ধ
  4. যে শব্দ প্রত্যয়যুক্ত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: মৌলিক শব্দ আর ছোট কোনো অর্থবহ অংশে বিভক্ত করা যায় না।

প্রশ্ন ৮

"বিদ্যালয়" শব্দটি কীভাবে গঠিত?

  1. মৌলিক
  2. উপসর্গযোগে সাধিত
  3. প্রত্যয়যোগে সাধিত
  4. সমাসযোগে সাধিত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: বি+আলয় (উপসর্গযোগে) মিলে বিদ্যালয় শব্দ গঠিত।

প্রশ্ন ৯

"হস্তী" শব্দটি কোন শ্রেণির?

  1. যৌগিক
  2. রূঢ়
  3. যোগরূঢ়
  4. মৌলিক
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: হস্তীর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রচলিত অর্থে হুবহু খাটে না, তাই এটি রূঢ় শব্দ।

প্রশ্ন ১০

"পঙ্কজ" শব্দের ব্যবহারিক অর্থ কী?

  1. কাদা
  2. পদ্মফুল
  3. জলাশয়
  4. শৈবাল
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: পঙ্কজ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ "কাদায় জন্মে যা" হলেও এটি ব্যবহারিক অর্থে শুধু পদ্মফুল বোঝায়।

প্রশ্ন ১১

"গায়ক" শব্দটি কোন শ্রেণির?

  1. রূঢ়
  2. যোগরূঢ়
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: গায়ক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন (যে গান করে), তাই এটি যৌগিক শব্দ।

প্রশ্ন ১২

"সূর্য"-এর সমার্থক শব্দ কোনটি নয়?

  1. রবি
  2. ভানু
  3. শশী
  4. তপন
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: "শশী" চন্দ্রের সমার্থক শব্দ, সূর্যের নয়।

প্রশ্ন ১৩

"ন্যায়"-এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?

  1. নীতি
  2. অন্যায়
  3. বিচার
  4. সততা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: ন্যায়-এর বিপরীত শব্দ অন্যায়।

প্রশ্ন ১৪

"নীর" শব্দের অর্থ কী?

  1. বাসা
  2. জল
  3. আকাশ
  4. পাথর
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: "নীর" অর্থ জল, "নীড়" অর্থ পাখির বাসা — দুটি সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ।

প্রশ্ন ১৫

বাক্যে বিভক্তিযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত শব্দকে কী বলে?

  1. ধ্বনি
  2. বর্ণ
  3. পদ
  4. প্রকৃতি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দকেই পদ বলা হয়।

Level 2 — Standard BCS

প্রশ্ন ১৬

তদ্ভব শব্দ গঠনের ভাষাবিবর্তন ধারা কোনটি সঠিক?

  1. সংস্কৃত → বাংলা সরাসরি
  2. সংস্কৃত → প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা
  3. প্রাকৃত → সংস্কৃত → বাংলা
  4. বাংলা → সংস্কৃত → প্রাকৃত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ/অবহট্ঠ ধারা পেরিয়ে বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছে।

প্রশ্ন ১৭

"চাকর", "বাজার", "দোকান" — এই শব্দগুলো কোন ভাষার?

  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. পর্তুগিজ
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: চাকর, বাজার, দোকান — এই শব্দগুলো ফারসি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।

প্রশ্ন ১৮

"উকিল", "আদালত", "তারিখ" — এই শব্দগুলো কোন ভাষার?

  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. ইংরেজি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: উকিল, আদালত, তারিখ, মহকুমা — এই শব্দগুলো আরবি ভাষা থেকে এসেছে।

প্রশ্ন ১৯

রূঢ় ও যোগরূঢ় শব্দের মূল পার্থক্য কী?

  1. রূঢ় একক শব্দ, যোগরূঢ় সমাসবদ্ধ শব্দ
  2. রূঢ় তৎসম, যোগরূঢ় তদ্ভব
  3. রূঢ় বিদেশি, যোগরূঢ় দেশি
  4. কোনো পার্থক্য নেই
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: রূঢ় শব্দ সাধারণত একক প্রকৃতি-প্রত্যয়সিদ্ধ, যোগরূঢ় শব্দ সমাসবদ্ধ একাধিক অংশযুক্ত।

প্রশ্ন ২০

"তৈল" শব্দে কী ধরনের অর্থ পরিবর্তন ঘটেছে?

  1. অর্থের সংকোচ
  2. অর্থের প্রসার
  3. অর্থের অবনতি
  4. অর্থের উন্নতি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: তিল থেকে তৈরি তেল বোঝানো "তৈল" শব্দটি এখন যেকোনো তেল বোঝায় — এটি অর্থের প্রসার।

প্রশ্ন ২১

"পঙ্কজ" শব্দে কী ধরনের অর্থ পরিবর্তন ঘটেছে?

  1. অর্থের প্রসার
  2. অর্থের সংকোচ
  3. অর্থের উন্নতি
  4. অর্থের অবনতি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: পঙ্কজ শব্দের অর্থ ব্যাপক থেকে নির্দিষ্ট (শুধু পদ্মফুল) হয়েছে — এটি অর্থের সংকোচ।

প্রশ্ন ২২

প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ কোনটি?

  1. প্রবেশ
  2. ডাকাতি
  3. রাজপুত্র
  4. হাত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: ডাকাত+ই=ডাকাতি — এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত সাধিত শব্দ।

প্রশ্ন ২৩

সমাসযোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ কোনটি?

  1. প্রবেশ
  2. ডাকাতি
  3. রাজপুত্র
  4. গৃহিণী
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: "রাজার পুত্র" সংক্ষিপ্ত হয়ে "রাজপুত্র" — এটি সমাসযোগে গঠিত শব্দ।

প্রশ্ন ২৪

দেশি শব্দের উৎস সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

  1. নিশ্চিতভাবে সংস্কৃত থেকে আগত
  2. নিশ্চিতভাবে দ্রাবিড় ভাষা থেকে আগত
  3. আদি অনার্য/আঞ্চলিক উৎস, সুনির্দিষ্ট উৎস নিয়ে গবেষণা চলমান
  4. নিশ্চিতভাবে ইংরেজি থেকে আগত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: দেশি শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎস নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে গবেষণা চলমান, নিশ্চিতভাবে একক উৎস দাবি করা ঠিক নয়।

প্রশ্ন ২৫

"কাল" শব্দটি বহুঅর্থক শব্দের উদাহরণ কেন?

  1. এর একাধিক সমার্থক শব্দ আছে বলে
  2. এটি একাধিক ভিন্ন অর্থ বহন করে বলে (সময়, গতকাল, মৃত্যু)
  3. এটি তৎসম শব্দ বলে
  4. এটি সাধিত শব্দ বলে
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: একটি শব্দ প্রসঙ্গভেদে একাধিক ভিন্ন অর্থ বহন করলে সেটি বহুঅর্থক শব্দ।

প্রশ্ন ২৬

"চন্দ্র" ও "চাঁদ" — এই শব্দজোড়ের সম্পর্ক কী?

  1. উভয়ই তৎসম
  2. চন্দ্র তৎসম, চাঁদ তদ্ভব
  3. চন্দ্র তদ্ভব, চাঁদ তৎসম
  4. উভয়ই দেশি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: "চন্দ্র" সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত তৎসম, আর "চাঁদ" এর রূপান্তরিত তদ্ভব রূপ।

প্রশ্ন ২৭

যৌগিক শব্দের সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনটি সঠিক?

  1. ব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ ভিন্ন
  2. ব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন
  3. শুধু বিদেশি শব্দে প্রযোজ্য
  4. শুধু তৎসম শব্দে প্রযোজ্য
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: যৌগিক শব্দে উপাদানের অর্থের সমষ্টি ও প্রচলিত অর্থ এক থাকে।

প্রশ্ন ২৮

নিচের কোনটি অর্ধ-তৎসম শব্দ নয়?

  1. গিন্নি
  2. জোছনা
  3. চন্দ্র
  4. ছেরাদ্দ
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: "চন্দ্র" নিজেই তৎসম শব্দ, অর্ধ-তৎসম নয়।

প্রশ্ন ২৯

মৌলিক ও সাধিত শব্দের শ্রেণিবিভাগ কোন ভিত্তিতে করা হয়?

  1. উৎপত্তি
  2. গঠন
  3. অর্থ
  4. ব্যবহার
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: মৌলিক ও সাধিত — এই শ্রেণিবিভাগ শব্দের গঠন ভিত্তিতে করা হয়।

প্রশ্ন ৩০

"জলধি" শব্দটি কোন শ্রেণির?

  1. রূঢ়
  2. যোগরূঢ়
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: "জল ধারণ করে যা" এমন অনেক কিছু থাকতে পারে, কিন্তু জলধি শব্দটি নির্দিষ্টভাবে "সমুদ্র" বোঝায় — তাই এটি যোগরূঢ়।

Level 3 — Hard/Trap

প্রশ্ন ৩১

একটি শব্দ উৎপত্তির দিক থেকে তৎসম হলেও গঠনের দিক থেকে কী হতে পারে?

  1. সাধিত
  2. দেশি
  3. বিদেশি
  4. তদ্ভব
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: একই শব্দ উৎপত্তির দিক থেকে তৎসম হলেও গঠনের দিক থেকে সাধিত (উপসর্গ/প্রত্যয়যুক্ত) হতে পারে — এই দুই শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রশ্ন ৩২

নিচের কোনটি রূঢ় ও যোগরূঢ়ের মধ্যে সঠিক পার্থক্য নির্দেশ করে?

  1. রূঢ় শব্দ একক, যোগরূঢ় সমাসবদ্ধ
  2. রূঢ় শব্দ বিদেশি, যোগরূঢ় দেশি
  3. রূঢ় শব্দ মৌলিক, যোগরূঢ় সাধিত নয়
  4. কোনো পার্থক্য নেই
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: রূঢ় শব্দ সাধারণত একক প্রকৃতি-প্রত্যয়সিদ্ধ (যেমন: হস্তী), যোগরূঢ় শব্দ সমাসবদ্ধ একাধিক অংশযুক্ত (যেমন: পঙ্কজ)।

প্রশ্ন ৩৩

"অর্ধ-তৎসম" শব্দ তদ্ভব নয় কেন?

  1. এটি বিদেশি উৎসের
  2. এটি সম্পূর্ণ ভাষাবৈজ্ঞানিক রূপান্তর প্রক্রিয়া পেরোয়নি, শুধু উচ্চারণগত পরিবর্তন হয়েছে
  3. এটি দেশি শব্দ
  4. এটির কোনো তৎসম মূল নেই
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: অর্ধ-তৎসম শব্দ প্রাকৃত-অপভ্রংশের দীর্ঘ ধারা পেরিয়ে আসেনি, বরং মূল তৎসম রূপের সরলীকৃত/পরিবর্তিত উচ্চারণ মাত্র।

প্রশ্ন ৩৪

নিচের কোন বক্তব্যটি ভুল?

  1. শব্দ ও পদ অভিন্ন বিষয়
  2. বর্ণ এককভাবে অর্থ প্রকাশ করে না
  3. পদ বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত রূপ
  4. শব্দ অভিধানে সংরক্ষিত মৌলিক রূপ
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: শব্দ ও পদ অভিন্ন নয় — শব্দ অভিধানের মৌলিক রূপ, পদ বাক্যে বিভক্তিযুক্ত ব্যবহৃত রূপ।

প্রশ্ন ৩৫

"গৃহিণী" ও "গিন্নি" — এই শব্দজোড় দিয়ে কী বোঝানো যায়?

  1. তৎসম ও তদ্ভবের পার্থক্য
  2. তৎসম ও অর্ধ-তৎসমের পার্থক্য
  3. দেশি ও বিদেশির পার্থক্য
  4. মৌলিক ও সাধিতের পার্থক্য
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: খ। ব্যাখ্যা: গৃহিণী তৎসম রূপ, গিন্নি তার অর্ধ-তৎসম (সামান্য পরিবর্তিত) রূপ।

প্রশ্ন ৩৬

নিচের কোনটি ভাষাভিত্তিক শব্দ শ্রেণিবিভাগের সঠিক জোড়া নয়?

  1. নামাজ — ফারসি
  2. আলমারি — পর্তুগিজ
  3. বাবা — তুর্কি
  4. উকিল — ইংরেজি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ। ব্যাখ্যা: "উকিল" আরবি শব্দ, ইংরেজি নয় — এই জোড়াটি ভুল।

প্রশ্ন ৩৭

"সচিব" শব্দে অর্থের কী পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করা হয়?

  1. অর্থের প্রসার
  2. অর্থের সংকোচ
  3. অর্থের উন্নতি
  4. অর্থের অবনতি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: মূলত ব্যক্তিগত সহচর অর্থে ব্যবহৃত "সচিব" শব্দ এখন উচ্চ রাষ্ট্রীয় পদ বোঝায় — এটি প্রচলিতভাবে অর্থের উন্নতির উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।

প্রশ্ন ৩৮

"রাজপুত্র" শব্দটি গঠনের দিক থেকে কোন শ্রেণির?

  1. মৌলিক
  2. প্রত্যয়যোগে সাধিত
  3. সমাসযোগে সাধিত
  4. উপসর্গযোগে সাধিত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: "রাজার পুত্র" সংক্ষিপ্ত হয়ে সমাসযোগে "রাজপুত্র" শব্দ গঠিত হয়েছে।

প্রশ্ন ৩৯

"পঙ্কজ" ও "গায়ক" শব্দের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

  1. পঙ্কজ যোগরূঢ়, গায়ক যৌগিক
  2. পঙ্কজ যৌগিক, গায়ক যোগরূঢ়
  3. উভয়ই যৌগিক
  4. উভয়ই যোগরূঢ়
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: ক। ব্যাখ্যা: পঙ্কজের সমষ্টিগত অর্থ থেকে বিশেষ অর্থ তৈরি হয়েছে (যোগরূঢ়), গায়কের ব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন (যৌগিক)।

প্রশ্ন ৪০

দেশি শব্দ সম্পর্কে সবচেয়ে সতর্ক ও সঠিক বক্তব্য কোনটি?

  1. দেশি শব্দের উৎস সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত
  2. দেশি শব্দ সবসময় সংস্কৃতমূলক
  3. দেশি শব্দের সুনির্দিষ্ট উৎস নিয়ে গবেষণা চলমান, তাই অতিরিক্ত নিশ্চিত দাবি করা ঠিক নয়
  4. দেশি শব্দ সবসময় বিদেশি ভাষা থেকে আগত
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গ। ব্যাখ্যা: দেশি শব্দের উৎস নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো গবেষণা চলমান, তাই একক নিশ্চিত দাবি না করাই সমীচীন।

Matching Questions

শব্দ ↔ শ্রেণি

চন্দ্র↔তৎসম
চাঁদ↔তদ্ভব
গিন্নি↔অর্ধ-তৎসম
ঢেঁকি↔দেশি

শব্দ ↔ উৎস (ভাষা)

নামাজ↔ফারসি
উকিল↔আরবি
আলমারি↔পর্তুগিজ
বাবা↔তুর্কি

শব্দ ↔ অর্থ (রূঢ়/যোগরূঢ়/যৌগিক)

হস্তী↔রূঢ়
পঙ্কজ↔যোগরূঢ়
গায়ক↔যৌগিক

শব্দ ↔ বিপরীতার্থক

ন্যায়↔অন্যায়
আলো↔অন্ধকার

নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক? (Assertion/Statement)

১. (ক) শব্দ ও পদ অভিন্ন (খ) পদ হলো বাক্যে বিভক্তিযুক্ত শব্দের ব্যবহৃত রূপ (গ) শব্দমাত্রই পদ (ঘ) পদমাত্রই মৌলিক শব্দ

সঠিক উত্তর: খ। পদ হলো বাক্যে বিভক্তিযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত শব্দ।

২. (ক) তদ্ভব ও দেশি শব্দ একই (খ) তদ্ভব সংস্কৃতমূল, দেশি আঞ্চলিক/অনার্য উৎসের (গ) দেশি শব্দ সবসময় বিদেশি (ঘ) তদ্ভব শব্দ সবসময় বিদেশি

সঠিক উত্তর: খ। তদ্ভব সংস্কৃত-উদ্ভূত, দেশি আঞ্চলিক/অনার্য উৎসের — সম্পূর্ণ ভিন্ন উৎস।

৩. (ক) রূঢ় ও যোগরূঢ় অভিন্ন (খ) রূঢ় একক শব্দ, যোগরূঢ় সমাসবদ্ধ (গ) যৌগিক ও যোগরূঢ় অভিন্ন (ঘ) মৌলিক ও রূঢ় অভিন্ন

সঠিক উত্তর: খ। রূঢ় সাধারণত একক প্রকৃতি-প্রত্যয়সিদ্ধ, যোগরূঢ় সমাসবদ্ধ একাধিক অংশযুক্ত।

৪. (ক) সমার্থক শব্দ সবসময় সম্পূর্ণ অভিন্ন অর্থ বহন করে (খ) সমার্থক শব্দে প্রসঙ্গভেদে সূক্ষ্ম অর্থপার্থক্য থাকতে পারে (গ) সমার্থক শব্দ কখনো ভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহার হয় না (ঘ) সমার্থক শব্দ শুধু তৎসমেই সীমাবদ্ধ

সঠিক উত্তর: খ। সমার্থক শব্দে প্রসঙ্গভেদে সূক্ষ্ম অর্থপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।

৫. (ক) উৎপত্তি ও গঠন একই বিষয় বোঝায় (খ) একটি শব্দ উৎপত্তির দিক থেকে এক রকম, গঠনের দিক থেকে ভিন্ন রকম হতে পারে (গ) একটি শব্দ শুধু একটিই শ্রেণিতে পড়তে পারে (ঘ) উৎপত্তি ও অর্থ একই জিনিস

সঠিক উত্তর: খ। উৎপত্তি, গঠন ও অর্থ — তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিত্তি, তাই একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে ভিন্ন শ্রেণিতে পড়তে পারে।

"কোনটি ভিন্ন?" (Which One Is Different?)

১. ক. চন্দ্র খ. সূর্য গ. নদী ঘ. স্কুল — উত্তর: ঘ (স্কুল)। কারণ বাকি তিনটি তৎসম, স্কুল ইংরেজি শব্দ।

২. ক. হাত খ. চোখ গ. কান ঘ. বৃক্ষ — উত্তর: ঘ (বৃক্ষ)। কারণ বাকি তিনটি তদ্ভব, বৃক্ষ তৎসম শব্দ।

৩. ক. নামাজ খ. রোজা গ. উকিল ঘ. দোকান — উত্তর: গ (উকিল)। কারণ বাকি তিনটি ফারসি, উকিল আরবি শব্দ।

৪. ক. আলমারি খ. বালতি গ. চাবি ঘ. বাবা — উত্তর: ঘ (বাবা)। কারণ বাকি তিনটি পর্তুগিজ, বাবা তুর্কি শব্দ।

৫. ক. হস্তী খ. পঙ্কজ গ. জলধি ঘ. গায়ক — উত্তর: ঘ (গায়ক)। কারণ বাকি তিনটি রূঢ়/যোগরূঢ় শ্রেণির, গায়ক যৌগিক শব্দ।

One-Minute Revision Table

বিষয়মনে রাখুন
তৎসমসংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত
অর্ধ-তৎসমতৎসমের সামান্য পরিবর্তিত রূপ
তদ্ভবসংস্কৃত→প্রাকৃত→অপভ্রংশ→বাংলা
দেশিআদি অনার্য/আঞ্চলিক উৎস
বিদেশিআরবি/ফারসি/ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা থেকে
মৌলিকভাঙা যায় না
সাধিতউপসর্গ/প্রত্যয়/সমাসযোগে গঠিত
রূঢ়ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রচলিত অর্থে খাটে না (হস্তী)
যোগরূঢ়সমষ্টিগত অর্থ থেকে বিশেষ অর্থ (পঙ্কজ)
যৌগিকব্যুৎপত্তিগত ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন (গায়ক)

Final BCS Study Checklist

  • শব্দের সংজ্ঞা
  • শব্দ-বর্ণ-পদ পার্থক্য
  • উৎপত্তি অনুসারে শব্দ
  • তৎসম
  • অর্ধ-তৎসম
  • তদ্ভব
  • দেশি
  • বিদেশি
  • মৌলিক
  • সাধিত
  • রূঢ়
  • যোগরূঢ়
  • যৌগিক
  • সমার্থক
  • বিপরীতার্থক
  • বহুঅর্থক
  • সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক
  • অর্থের পরিবর্তন
  • VVI শব্দ
  • MCQ Practice

Frequently Asked Questions

শব্দ কাকে বলে?

অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলে। যেমন — "বই", "গাছ" — প্রতিটিই একটি নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে।

শব্দের শ্রেণিবিভাগ কী?

শব্দকে উৎপত্তি (তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি), গঠন (মৌলিক, সাধিত) এবং অর্থ/ব্যবহার (যৌগিক, রূঢ়, যোগরূঢ়) — এই তিন ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

তৎসম শব্দ কী?

যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে সরাসরি বাংলায় এসেছে, সেগুলো তৎসম শব্দ। যেমন: চন্দ্র, সূর্য, নদী।

অর্ধ-তৎসম শব্দ কী?

তৎসম শব্দের সামান্য পরিবর্তিত/সরলীকৃত উচ্চারণ রূপকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। যেমন: গৃহিণী → গিন্নি।

তদ্ভব শব্দ কী?

সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ ধারা পেরিয়ে রূপান্তরিত শব্দকে তদ্ভব শব্দ বলে। যেমন: হস্ত → হাত।

দেশি শব্দ কী?

আদি অনার্য/আঞ্চলিক উৎসের শব্দকে দেশি শব্দ বলে। যেমন: ঢেঁকি, কুলা।

বিদেশি শব্দ কী?

আরবি, ফারসি, তুর্কি, পর্তুগিজ, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষা থেকে আগত শব্দকে বিদেশি শব্দ বলে।

মৌলিক শব্দ কী?

যে শব্দকে আর ছোট অর্থবহ অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: হাত, মা।

সাধিত শব্দ কী?

উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসযোগে গঠিত নতুন শব্দকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন: বিদ্যালয়, ডাকাতি, রাজপুত্র।

রূঢ় শব্দ কী?

যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রচলিত অর্থে খাটে না, তাকে রূঢ় শব্দ বলে। যেমন: হস্তী।

যোগরূঢ় শব্দ কী?

যে সমাসবদ্ধ শব্দের সমষ্টিগত অর্থ থেকে একটি নির্দিষ্ট বিশেষ অর্থ তৈরি হয়, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন: পঙ্কজ।

যৌগিক শব্দ কী?

যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থ অভিন্ন থাকে, তাকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: গায়ক।

রূঢ় ও যোগরূঢ়ের পার্থক্য কী?

রূঢ় শব্দ সাধারণত একক প্রকৃতি-প্রত্যয়সিদ্ধ, আর যোগরূঢ় শব্দ সমাসবদ্ধ একাধিক অংশ নিয়ে গঠিত এবং সমষ্টিগত অর্থ থেকে বিশেষ অর্থ ধারণ করে।

তৎসম ও তদ্ভবের পার্থক্য কী?

তৎসম শব্দ সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিত রূপে এসেছে, তদ্ভব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত-অপভ্রংশ হয়ে রূপান্তরিত হয়ে এসেছে।

BCS-এ শব্দ অধ্যায় কীভাবে পড়ব?

প্রতিটি শ্রেণিবিভাগের সংজ্ঞা, উদাহরণ ও তুলনামূলক টেবিল নোট করে নিয়মিত রিভিশন দিন, Confusing শব্দগুলো আলাদা করে চিহ্নিত রাখুন এবং নিয়মিত MCQ অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুতি যাচাই করুন।

🎯 শুধু পড়লেই হবে না, নিয়মিত Practice-ও দরকার

বাংলা ব্যাকরণে শুধু theory পড়লে হবে না — নিয়মিত MCQ, Topic Test, Daily Test ও Model Test-এর মাধ্যমে একই concept বারবার practice করতে হবে। BCS Exam Aid-এ পাবেন বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, নিয়মিত বাংলা MCQ Practice, Daily Test, Subject Test, Topic Test, Model Test, Revision Test — এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি একই জায়গায়।


0 Like(s) 33 Views
Author
Admin

বিশেষজ্ঞ কন্টেন্ট নির্মাতা

প্রোফাইল দেখুন »