বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ
আবিষ্কার, পাণ্ডুলিপি, কবি, সন্ধ্যাভাষা, BCS-এর পুনরাবৃত্ত প্রশ্নের ধরন, confusing facts এবং শেষ মুহূর্তের revision — সবকিছু এক জায়গায়।
এক নজরে: প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ
| বিষয় | পরীক্ষামুখী তথ্য |
|---|---|
| বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ | ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ |
| প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন | চর্যাপদ |
| চর্যাপদের প্রকৃতি | বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধনসংগীত/গানের সংকলন |
| আবিষ্কারক | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
| আবিষ্কারের সাল | ১৯০৭ |
| আবিষ্কারের স্থান | নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার/রাজগ্রন্থশালা |
| প্রকাশনা | ১৯১৬ |
| প্রকাশিত গ্রন্থ | হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা |
| প্রকাশক প্রতিষ্ঠান | বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ |
| পাণ্ডুলিপির প্রচলিত নাম | চর্যাচর্যবিনিশ্চয় |
| ভাষা | প্রাচীন বাংলা-ঘনিষ্ঠ পূর্বভারতীয় ভাষারূপ; পরীক্ষায় সান্ধ্য ভাষা/আলো-আঁধারি ভাষা |
| ধর্মীয় পটভূমি | বৌদ্ধ সহজিয়া/তান্ত্রিক সাধনা |
| প্রচলিত প্রাপ্ত পদসংখ্যা | ৪৬টি পূর্ণ পদ + ১টি খণ্ডিত পদ = ৪৬½ |
| তিব্বতি অনুবাদে | ৫০টি চর্যা/পদের পাঠ পাওয়া যায় |
| প্রচলিত কবির সংখ্যা | ২৩; মতান্তরে ২৪ |
| আদি কবি | লুইপা — প্রচলিত পরীক্ষামুখী উত্তর |
| সর্বাধিক পদ | কাহ্নপা — ১৩টি |
| টীকাকার | মুনিদত্ত |
| তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার/প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত | প্রবোধচন্দ্র বাগচী |
| সাহিত্যিক গুরুত্ব | বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন হিসেবে প্রচলিত |
পদসংখ্যার Trap: ‘৪৭’, ‘৪৬½’ এবং ‘৫০’ — এই তিনটি সংখ্যাকে একই অর্থে ব্যবহার করবেন না। মূল নেপালি পাণ্ডুলিপির প্রচলিত পাঠে ৪৭টি পদ আছে — ৪৬টি পূর্ণ ও একটি খণ্ডিত। তিব্বতি অনুবাদে ৫০টি পদের পাঠ পাওয়া যায়।
বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ
বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ ইতিহাসকে সাধারণভাবে তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করা হয় — প্রাচীন যুগ → মধ্যযুগ → আধুনিক যুগ
প্রচলিত পরীক্ষামুখী যুগবিভাগ
| যুগ | সময়কাল | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| প্রাচীন যুগ | ৬৫০–১২০০ খ্রি. | বৌদ্ধ সহজিয়া ভাবধারা, সাধনসংগীত, চর্যাপদ |
| মধ্যযুগ | ১২০১–১৮০০ খ্রি. — প্রচলিত বিভাজন | ধর্মীয় কাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী, মুসলিম কবিদের সাহিত্য |
| আধুনিক যুগ | ১৮০১ খ্রি. থেকে — প্রচলিত বিভাজন | পাশ্চাত্য প্রভাব, গদ্যের বিকাশ, উপন্যাস, নাটক, আধুনিক কবিতা |
সময়কাল নিয়ে মতভেদ
বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ কোনো প্রাকৃতিক বা অপরিবর্তনীয় সীমারেখা নয়। সাহিত্য ও ভাষার পরিবর্তন ধীরে ধীরে ঘটে। গবেষকভেদে সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। BCS-এ সরাসরি প্রশ্ন এলে — “বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ কোনটি?” — প্রচলিত উত্তর ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ। ৩৪তম BCS-এর প্রশ্নব্যাংকে এই সময়সীমা সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
BCS Focus: প্রশ্নে যদি নির্দিষ্ট গবেষকের মত চাওয়া হয়, তখন প্রশ্নের ভাষা অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে। কিন্তু সাধারণ পরীক্ষামুখী প্রশ্নে ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ সবচেয়ে প্রচলিত উত্তর।
প্রাচীন যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদ। এই যুগের সাহিত্যকে বুঝতে হলে এর ধর্মীয়, সামাজিক ও ভাষাগত পটভূমি বুঝতে হবে।
ধর্মীয় প্রভাব
প্রাচীন যুগের সাহিত্য গভীরভাবে ধর্মীয় ও সাধনামূলক। বিশেষ করে চর্যাপদের কবিরা বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে চর্যাপদকে কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ ভাবলে এর সাহিত্যিক ও সামাজিক গুরুত্ব বোঝা যাবে না — এর পদগুলোতে সমকালীন মানুষের জীবন, পেশা, প্রকৃতি, নৌকা, শিকার, গৃহস্থালি ইত্যাদিরও চিত্র পাওয়া যায়।
বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা ও তান্ত্রিক প্রভাব
সিদ্ধাচার্যরা দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত দৃশ্য ও উপকরণ ব্যবহার করে আধ্যাত্মিক সত্যকে প্রকাশ করেছেন। ফলে একটি পদের বাহ্যিক অর্থ এবং অন্তর্নিহিত সাধনাগত অর্থ এক নাও হতে পারে। চর্যাপদের ভাবজগতে বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাধনার প্রভাব রয়েছে, তাই পদগুলোর অনেক প্রতীক সরাসরি অর্থে না নিয়ে সাধনাগত অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়।
গূঢ়ার্থ, লোকজ জীবন ও প্রকৃতি
চর্যাপদের কবিরা সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে প্রতীক, রূপক ও ইঙ্গিতের সাহায্যে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন — এ কারণেই অনেক পঙ্ক্তি দুর্বোধ্য মনে হয়। তবে চর্যাপদের বড় ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এতে তৎকালীন সমাজজীবনের নানা ছবি পাওয়া যায় — নৌকা ও মাঝি, শিকার, কুমোর, গৃহস্থালি, পশুপাখি, বাদ্যযন্ত্র, নারী-পুরুষের জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, সামাজিক রীতি। Banglapedia-ও চর্যাপদের পদগুলোতে সমকালীন পেশা, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক-অলংকার, গৃহপালিত প্রাণী এবং সামাজিক জীবনের তথ্যের কথা উল্লেখ করেছে। নদী, পদ্ম, বন, শিকার, নৌকা প্রভৃতি পরিচিত দৃশ্যকে কবিরা সাধনার প্রতীকী ভাষায় ব্যবহার করেছেন।
ভাষার বিবর্তন
চর্যাপদের ভাষায় বাংলা ভাষার বিকাশের প্রাথমিক স্তরের নানা বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, পাশাপাশি পূর্বভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে এর মিলও লক্ষ্য করা যায়। তাই চর্যাপদ শুধু সাহিত্য নয় — বাংলা ভাষার ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
চর্যাপদ কী?
চর্যাপদ হলো বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাধনসংগীত বা গানের সংকলন — বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নিদর্শন। Banglapedia চর্যাপদকে বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত প্রাচীনতম কবিতাগুলোর সংকলন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর রচনাকাল অন্তত নবম শতক পর্যন্ত প্রসারিত বলে উল্লেখ করেছে।
চর্যাপদকে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়?
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন হিসেবে প্রচলিত।
- প্রাচীন বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ নমুনা।
- বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার পরিচায়ক।
- প্রাচীন সমাজজীবনের তথ্যের উৎস।
- বাংলা গীতিকবিতার প্রাথমিক নিদর্শন।
- ভাষার বিবর্তন বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- সাহিত্য, ধর্ম, সমাজ ও ভাষার ইতিহাস — চারটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখুন: চর্যাপদকে শুধু “কাব্য” হিসেবে পড়বেন না। পরীক্ষায় এটি ভাষা + সাহিত্য + ধর্ম + সমাজ + পাণ্ডুলিপি — সব দিক থেকেই আসে।
চর্যাপদ আবিষ্কারের ইতিহাস
এটি BCS-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার/রাজগ্রন্থশালায় তালপাতায় লেখা পাণ্ডুলিপিটি আবিষ্কার করেন। Banglapedia অনুযায়ী এই তথ্য নথিভুক্ত।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নিজেই পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনা করেন।
তিনি পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করেন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় নামে, যা হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা গ্রন্থের অংশ হিসেবে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
আবিষ্কার, সম্পাদনা, প্রকাশনা ও টীকাকার — একসঙ্গে বুঝে নিন
এখানেই BCS পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুল করে।
BCS Trap: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী = আবিষ্কারক ও সম্পাদক; মুনিদত্ত = টীকাকার; প্রবোধচন্দ্র বাগচী = তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার/প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত। এই তিনজনকে কখনো এক করে ফেলবেন না।
পাণ্ডুলিপি: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
চর্যাপদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পাণ্ডুলিপি হলো চর্যাচর্যবিনিশ্চয় — তালপাতায় লেখা পাণ্ডুলিপি হিসেবে নেপালে সংরক্ষিত ছিল। পাণ্ডুলিপিতে চর্যার পদগুলোর সঙ্গে সংস্কৃত টীকাও ছিল। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার ও সম্পাদনা করেন।
১৯১৬ সালের প্রকাশনার তথ্য মূল প্রকাশনার ডিজিটাল কপিতেও দেখা যায়; গ্রন্থটির প্রকাশক ছিল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ এবং প্রকাশস্থান ছিল কলকাতা। এই গ্রন্থে চর্যাপদ ছাড়াও আরও কিছু বৌদ্ধ দোহা ও সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপির পাঠ ছিল — যেমন দোহাকোষ ও ডাকার্ণব।
পরীক্ষায় মনে রাখুন: ১৯০৭ = আবিষ্কার, ১৯১৬ = প্রকাশনা।
চর্যাপদের পদসংখ্যা: ৪৭, ৪৬½ নাকি ৫০?
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ confusing fact। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিতে ৪৭টি পদ পাওয়া যায় — ৪৬টি পূর্ণ পদ ও ১টি খণ্ডিত পদ, অর্থাৎ প্রচলিত হিসাবে ৪৬½টি পদ। এই কারণে অনেক বাংলা সাহিত্য বইয়ে ৪৬½টি পদ লেখা হয়। অন্যদিকে তিব্বতি অনুবাদে ৫০টি পদের পাঠ পাওয়া যায়। Banglapedia-ও নেপালীয় পাণ্ডুলিপিতে ৪৭টি পদ এবং ২৩ কবির তথ্য দিয়েছে।
পরীক্ষার জন্য কী করবেন?
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| চর্যাপদের পাণ্ডুলিপিতে কয়টি পদ পাওয়া গেছে? | ৪৭টি |
| প্রাপ্ত চর্যাপদের পূর্ণ ও খণ্ডিত পদ মিলিয়ে সংখ্যা কত? | ৪৬½টি |
| তিব্বতি অনুবাদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা | ৫০টি |
VVI: “৪৭” ও “৫০” একই পাণ্ডুলিপির পদসংখ্যা নয়।
চর্যাপদের কবিরা
প্রচলিত পরীক্ষামুখী উত্তর — ২৩ জন; মতান্তরে ২৪ জন। Banglapedia নেপালি পাণ্ডুলিপির ৪৭টি পদকে ২৩ জন কবির রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের সরকারি শিক্ষক বাতায়নের একটি শিক্ষামূলক উপকরণেও ২৩ জন এবং মতান্তরে ২৪ জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মূল পাণ্ডুলিপির পাঠ অসম্পূর্ণ হওয়ায়, এবং তিব্বতি অনুবাদ ও অন্যান্য গবেষণার মাধ্যমে নতুন পাঠ ও কবির নাম নিয়ে গবেষণা হওয়ায় এই মতভেদ দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাচার্য কবি
| কবি | পরিচিতি/পরীক্ষামুখী তথ্য |
|---|---|
| লুইপা | প্রচলিত পরীক্ষামুখী মতে আদি কবি; প্রথম পদ তাঁর |
| কাহ্নপা | সর্বাধিক পদ রচয়িতা; প্রচলিত হিসাবে ১৩টি |
| শবরপা | অন্যতম প্রাচীন সিদ্ধাচার্য |
| সরহপা | গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাচার্য |
| কুক্কুরিপা | চর্যার কবি |
| ভুসুকুপা | গুরুত্বপূর্ণ কবি; তাঁর একাধিক পদ আছে |
| ডোম্বীপা | প্রতীকী ভাষার উল্লেখযোগ্য কবি |
| ঢেণ্ঢণপা/ধেংঢণপা | চর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ তাঁর নামে যুক্ত |
| শান্তিপা | চর্যার কবি |
| আর্যদেবপা | চর্যার কবি |
| তাড়কপা | চর্যার কবি |
কবির সংখ্যা ও কিছু কবির পরিচয় নিয়ে গবেষণায় পার্থক্য আছে। তাই এখানে শুধু পরীক্ষায় বহুল ব্যবহৃত ও পাঠে প্রত্যক্ষভাবে পাওয়া নামগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আদি কবি কে?
লুইপা — BCS ও অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর। ২৯তম BCS-এ বাংলা সাহিত্যের আদি কবি সম্পর্কিত প্রশ্ন এসেছিল বলে বিভিন্ন প্রশ্নব্যাংকে নথিভুক্ত আছে। চর্যার প্রথম পদ — “কাআ তরুবর পাঞ্চবি ডাল...” — প্রচলিত পরীক্ষামুখী তথ্য অনুযায়ী এটি লুইপার রচনা।
🧠 Memory Trick
লুই = লিডার/লাস্টিং শুরু → চর্যার শুরু মনে রাখতে লুইপা = প্রথম পদ।
সর্বাধিক পদ কার?
কাহ্নপা — চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন, প্রচলিত হিসাবে ১৩টি পদ।
আদি কবি → লুইপা | সর্বাধিক পদ → কাহ্নপা — এ দুটিকে গুলিয়ে ফেলাই BCS-এর অন্যতম classic trap।
চর্যাপদের ভাষা: সন্ধ্যাভাষা
চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা বাংলা সাহিত্য ও ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষায় সবচেয়ে পরিচিত উত্তর — সন্ধ্যাভাষা, যাকে আলো-আঁধারি ভাষা-ও বলা হয়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ academic distinction আছে। চর্যাপদের ভাষা একেবারে আধুনিক বাংলা নয়। এতে প্রাচীন পূর্বভারতীয় ভাষার বৈশিষ্ট্য, অপভ্রংশ/অবহট্টের উপাদান এবং বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, বিহারি অঞ্চলের ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়। Banglapedia চর্যার ভাষায় বাংলা ছাড়াও ওড়িয়া, অসমিয়া ও বিহারি ভাষার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছে।
সন্ধ্যাভাষা কী?
‘সন্ধ্যা’ বলতে দিনের আলো ও অন্ধকারের মধ্যবর্তী অবস্থা বোঝায়। চর্যাপদের ভাষায়ও তেমন — কিছুটা প্রকাশ্য + কিছুটা গোপন। অর্থাৎ শব্দের একটি বাহ্যিক অর্থ থাকলেও সাধনাগত বা গূঢ় অর্থ থাকতে পারে। এই কারণে চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা বলা হয়।
পরীক্ষামুখী সংজ্ঞা: যে ভাষায় বাহ্যিক অর্থের আড়ালে গূঢ় বা সাধনাগত অর্থ প্রকাশ করা হয় এবং বক্তব্য আংশিক প্রকাশ্য ও আংশিক গোপন থাকে, তাকে চর্যাপদের সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।
৩৮তম BCS-এ সরাসরি প্রশ্ন এসেছিল — ‘সন্ধ্যাভাষা’ কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত? উত্তর: চর্যাপদ।
‘সন্ধ্যাভাষা’ বনাম ‘প্রাচীন বাংলা’
Trap: “চর্যাপদের ভাষা শুধু প্রাচীন বাংলা” — এভাবে সরলীকরণ করলে ভাষাবৈজ্ঞানিক আলোচনা অসম্পূর্ণ হয়। BCS short answer: সন্ধ্যাভাষা।
ধর্মীয় পটভূমি, নামকরণ, ছন্দ ও অন্যান্য নিদর্শন
ধর্মীয় ও দার্শনিক পটভূমি
চর্যাপদের কবিরা ছিলেন মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য। তাঁদের সাধনার মধ্যে বৌদ্ধ তান্ত্রিক ভাবধারা ও সহজিয়া দর্শনের প্রভাব ছিল। চর্যার পদে গুরু, সাধনা, দেহতত্ত্ব, সহজপথ, প্রতীক, নারী-পুরুষ, নৌকা, নদী, শিকার, পদ্ম, প্রকৃতি ইত্যাদি বিষয় পাওয়া যায় — তবে এগুলোকে আক্ষরিক অর্থে পড়লে চর্যার প্রকৃত ভাব বোঝা যায় না।
নামকরণ
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তাঁর প্রকাশনায় পাণ্ডুলিপির নাম হিসেবে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় ব্যবহার করেন। অন্যদিকে তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গবেষণায় চর্যাগীতিকোষবৃত্তি নামটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে — এখানে ‘বৃত্তি’ মানে টীকা, অর্থাৎ চর্যাগীতির ওপর টীকাসহ গ্রন্থ।
টীকাকার ও তিব্বতি অনুবাদ
চর্যাপদের সঙ্গে যুক্ত সংস্কৃত টীকার রচয়িতা হিসেবে মুনিদত্ত-এর নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — তাঁর টীকা চর্যার গূঢ়ার্থ বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যবান। (মনে রাখার কৌশল: মুনি → টীকা)। চর্যাপদের গবেষণায় প্রবোধচন্দ্র বাগচী-র অবদান গুরুত্বপূর্ণ — তিনি চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত পাঠ উদ্ধার/প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রচলিত পরীক্ষামুখী তথ্য অনুযায়ী ১৯৩৮ সালে তিনি চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ করেন। ৪৫তম BCS-এ এই বিষয়টি প্রশ্ন হিসেবে এসেছে বলে প্রশ্নব্যাংকগুলোতে নথিভুক্ত আছে। তিব্বতি অনুবাদে এমন কিছু পাঠ পাওয়া যায় যা নেপালে আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপির অসম্পূর্ণ অংশ বুঝতে সাহায্য করে।
সংগীতধর্মিতা ও ছন্দ
চর্যাপদের প্রতিটি পদ মূলত গাওয়ার জন্য রচিত এবং পদগুলোর সঙ্গে রাগের উল্লেখ পাওয়া যায় — এ কারণে চর্যাপদকে শুধু পাঠ্য কবিতা নয়, সাধনসংগীত হিসেবেও দেখা হয়। Banglapedia-তে প্রতিটি চর্যার সঙ্গে রাগ ও তাল নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৩তম BCS-এ প্রশ্ন এসেছিল — চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা? প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর: মাত্রাবৃত্ত।
BCS Rule: MCQ-তে যদি বিকল্প থাকে — অক্ষরবৃত্ত / মাত্রাবৃত্ত / স্বরবৃত্ত / অমিত্রাক্ষর — তাহলে পরীক্ষামুখী উত্তর মাত্রাবৃত্ত।
প্রতীক, চিত্রকল্প ও সমাজজীবন
চর্যাপদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পরিচিত জীবনের জিনিস দিয়ে গূঢ় সাধনামূলক বক্তব্য প্রকাশ করা — নৌকা, নদী ও মাঝি; ডোম্বী; শবর ও শবরী; পদ্মসহ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান। চর্যাপদে সমকালীন সমাজেরও ছবি পাওয়া যায় — নৌকার মাঝি, শিকারি, কুমোর, গৃহস্থ, নারী, বিভিন্ন পেশা, নদী ও জলপথ, বাদ্যযন্ত্র, গবাদিপশু, অলংকার, গ্রামীণ জীবন।
সতর্কতা: প্রতিটি প্রতীকের নির্দিষ্ট অর্থ এক লাইনে নির্ধারণ করা ঠিক নয়। গবেষণাভেদে ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে — BCS-এর জন্য standard interpretation-ই অনুসরণ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ পদ
| পদ/শুরুর অংশ | কবি | পরীক্ষামুখী গুরুত্ব |
|---|---|---|
| “কাআ তরুবর পাঞ্চবি ডাল...” | লুইপা | চর্যার প্রথম পদ |
| “টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী...” | ঢেণ্ঢণপা | চর্যার পদ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ |
| ডোম্বী-সম্পর্কিত চর্যা | ডোম্বীপা | প্রতীকী ভাষার উদাহরণ |
| ভুসুকুপাদের পদ | ভুসুকুপা | গুরুত্বপূর্ণ কবি ও পদ |
| কাহ্নপার পদসমূহ | কাহ্নপা | সর্বাধিক পদরচয়িতা |
BCS Focus: কোনো প্রশ্নে পদের প্রথম কয়েকটি শব্দ দেওয়া হলে আগে কবির নাম শনাক্ত করার অভ্যাস করুন।
সম্পর্কিত অন্যান্য নিদর্শন
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সরাসরি প্রাপ্ত সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদই কেন্দ্রীয়। তবে চর্যাপদের সঙ্গে সম্পর্কিত পাণ্ডুলিপি ও বৌদ্ধ সাহিত্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ:
| নাম | প্রকৃতি |
|---|---|
| চর্যাচর্যবিনিশ্চয় | চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি — অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ |
| চর্যাগীতিকোষ/চর্যাগীতিকোষবৃত্তি | চর্যা ও টীকাসংক্রান্ত নাম |
| দোহাকোষ | বৌদ্ধ সহজিয়া দোহা — চর্যাপদ-সংলগ্ন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ |
| ডাকার্ণব | বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্য — হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর সঙ্গে যুক্ত |
| তিব্বতি অনুবাদ | চর্যার অনুবাদ-সংরক্ষণ — প্রবোধচন্দ্র বাগচীর সঙ্গে যুক্ত |
BCS-এ কীভাবে প্রশ্ন আসে?
BCS প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি recurring pattern দেখা যায় — আবিষ্কারক, আবিষ্কারের স্থান, সাল, ভাষা, সন্ধ্যাভাষা, কবি, সর্বাধিক পদ, টীকাকার, তিব্বতি অনুবাদ, গ্রন্থের নাম।
BCS Previous Question Snapshot
| BCS | প্রশ্নের বিষয় | উত্তর |
|---|---|---|
| ২৮তম | চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে? | নেপালের রাজগ্রন্থশালা |
| ২৯তম | বাংলা সাহিত্যের আদি কবি | লুইপা |
| ৩৩তম | চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা? | মাত্রাবৃত্ত — প্রচলিত পরীক্ষার উত্তর |
| ৩৪তম | চর্যাপদ আবিষ্কারের সাল | ১৯০৭ |
| ৩৭তম | ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’ অর্থ | কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয় — প্রচলিত উত্তর |
| ৩৮তম | সন্ধ্যাভাষা কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত? | চর্যাপদ |
| ৪৩তম | চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান | নেপাল |
| ৪৫তম | তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশ | প্রবোধচন্দ্র বাগচী |
| ৪৭তম | চর্যাপদের শব্দার্থভিত্তিক প্রশ্ন | ‘ভণই’ ইত্যাদি |
২৮তম, ৩৩তম, ৩৪তম ও ৩৮তম BCS-এর প্রশ্নের স্বাধীন প্রশ্নব্যাংক/প্রশ্নসমাধান উৎসে মিল পাওয়া যায়। ৪৭তম BCS-এ চর্যাপদের পঙ্ক্তির শব্দার্থভিত্তিক প্রশ্নও ছিল — অর্থাৎ সাম্প্রতিক প্রশ্নে শুধু আবিষ্কারক বা সাল নয়, মূল চর্যার শব্দ ও পাঠ থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।
🔥 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি তথ্য
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রচলিত সময়কাল — ৬৫০–১২০০ খ্রি.
- প্রাচীন যুগের প্রধান সাহিত্যিক নিদর্শন — চর্যাপদ।
- চর্যাপদের আবিষ্কারক — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় — ১৯০৭ সালে।
- আবিষ্কারের স্থান — নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার।
- চর্যাপদ প্রকাশিত হয় — ১৯১৬ সালে।
- প্রকাশিত গ্রন্থের নাম — হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।
- প্রকাশক প্রতিষ্ঠান — বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
- পাণ্ডুলিপির প্রচলিত নাম — চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।
- চর্যাপদের কবিরা — সিদ্ধাচার্য।
- ধর্মীয় পটভূমি — বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনা।
- চর্যাপদের ভাষার পরীক্ষামুখী নাম — সন্ধ্যাভাষা।
- আরেক নাম — আলো-আঁধারি ভাষা।
- প্রচলিত আদি কবি — লুইপা।
- প্রথম পদ — লুইপা।
- সর্বাধিক পদ রচয়িতা — কাহ্নপা।
- কাহ্নপার প্রচলিত পদসংখ্যা — ১৩।
- প্রচলিত কবির সংখ্যা — ২৩; মতান্তরে ২৪।
- নেপালীয় পাণ্ডুলিপিতে পদ — ৪৭।
- পূর্ণ + খণ্ডিত হিসাবে — ৪৬½।
- তিব্বতি অনুবাদে — ৫০টি পাঠ।
- টীকাকার — মুনিদত্ত।
- তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষক — প্রবোধচন্দ্র বাগচী।
- চর্যাপদের পদ গাওয়ার জন্য রাগের উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদে সমাজজীবনের ছবি পাওয়া যায়।
- চর্যাপদে বৌদ্ধ তান্ত্রিক/সহজিয়া ভাবধারা রয়েছে।
- চর্যাপদের ভাষায় পূর্বভারতীয় বিভিন্ন ভাষার বৈশিষ্ট্যের মিল আছে।
- ৩৩তম BCS — চর্যাপদের ছন্দ।
- ৩৪তম BCS — আবিষ্কারের সাল।
- ৩৮তম BCS — সন্ধ্যাভাষা।
⚠️ Confusing Facts
যেগুলো BCS পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলে:
| গুলিয়ে ফেলার বিষয় | সঠিক পার্থক্য |
|---|---|
| আবিষ্কারক বনাম টীকাকার | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ≠ মুনিদত্ত |
| আবিষ্কার বনাম প্রকাশনা | ১৯০৭ ≠ ১৯১৬ |
| আবিষ্কারক বনাম তিব্বতি অনুবাদ গবেষক | হরপ্রসাদ ≠ প্রবোধচন্দ্র বাগচী |
| লুইপা বনাম কাহ্নপা | লুইপা = আদি কবি; কাহ্নপা = সর্বাধিক পদ |
| ৪৭ বনাম ৫০ | নেপালি পাণ্ডুলিপি বনাম তিব্বতি অনুবাদ |
| ৪৭ বনাম ৪৬½ | ৪৭টি পদ; ৪৬ পূর্ণ + ১ খণ্ডিত |
| সন্ধ্যাভাষা বনাম প্রাচীন বাংলা | সন্ধ্যাভাষা = গূঢ় ভাষারীতি; প্রাচীন বাংলা = ভাষার ঐতিহাসিক স্তর |
| চর্যাপদ বনাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় | চর্যাপদ প্রচলিত সাহিত্যিক নাম; চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পাণ্ডুলিপির প্রচলিত নাম |
| মুনিদত্ত বনাম প্রবোধচন্দ্র | মুনিদত্ত = টীকাকার; প্রবোধচন্দ্র = তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গবেষক |
| প্রাচীন যুগ বনাম মধ্যযুগ | প্রচলিত প্রাচীন যুগ = ৬৫০–১২০০ |
🧠 Memory Tricks
Trick ১ — ১৯০৭ → ১৯১৬: “আবিষ্কার আগে, প্রকাশ পরে”
১৯০৭ = খুঁজে পাওয়া • ১৯১৬ = বই হয়ে প্রকাশ
Trick ২ — তিন ব্যক্তি: হর–মুনি–প্রবোধ
হরপ্রসাদ → হারানো পাণ্ডুলিপি উদ্ধার • মুনিদত্ত → মুনির টীকা • প্রবোধচন্দ্র → তিব্বতি পাঠে প্রভা/আলো। এটি mnemonic মাত্র; পরীক্ষায় factual association আলাদা করে মনে রাখবেন।
Trick ৩ — লুই বনাম কাহ্ন
লুই = শুরু → লুইপা = প্রথম | কাহ্ন = বেশি → কাহ্নপা = সর্বাধিক
Trick ৪ — ১৯০৭ / ১৯১৬
07 = Discover • 16 = Publish
⚡ ৫ মিনিটে প্রাচীন যুগ Revision
MCQ Practice
Level ১ — Basic
১. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম প্রাপ্ত নিদর্শন কোনটি?
২. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
৩. চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
৪. চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
৫. চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
৬. চর্যাপদের টীকাকার কে?
৭. চর্যাপদের আদি কবি কে?
৮. চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ কার?
৯. চর্যাপদের প্রচলিত পদসংখ্যা কত?
১০. চর্যাপদের প্রকাশনা কোন সালে?
Level ২ — Standard BCS
১১. ‘সন্ধ্যাভাষা’ কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?
১২. চর্যাপদ প্রকাশিত হয় কোন গ্রন্থে?
১৩. ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ কী?
১৪. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কে?
১৫. চর্যাপদের কবিদের কী বলা হয়?
১৬. চর্যাপদের ধর্মীয় পটভূমি কোনটি?
১৭. চর্যাপদ কোন ধরনের সাহিত্য?
১৮. চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন —
১৯. চর্যাপদের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিতে মোট পদ —
২০. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রচলিত সময়কাল —
Level ৩ — Hard / Trap
২১. নিচের কোন জোড়াটি সঠিক?
২২. নিচের কোনটি সঠিক?
২৩. ৫০টি পদের পাঠ কোনটির সঙ্গে সম্পর্কিত?
২৪. কোনটি সঠিকভাবে মিলে?
২৫. চর্যাপদের ‘সন্ধ্যাভাষা’ বলতে প্রধানত বোঝায় —
২৬. কোন তথ্যটি সঠিক?
২৭. চর্যাপদের ৪৬½ সংখ্যাটি কী নির্দেশ করে?
২৮. নিচের কোনটি চর্যাপদের সঙ্গে সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্কিত?
২৯. ‘আদি কবি’ ও ‘সর্বাধিক পদ রচয়িতা’ যথাক্রমে —
৩০. নিচের কোন ব্যক্তি চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত?
Matching Questions
Matching ১
| ১. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী | খ. আবিষ্কারক |
| ২. মুনিদত্ত | ক. টীকাকার |
| ৩. লুইপা | গ. আদি কবি |
| ৪. কাহ্নপা | ঘ. সর্বাধিক পদ |
Matching ২
| ১. ১৯০৭ | খ. আবিষ্কার |
| ২. ১৯১৬ | ক. প্রকাশনা |
| ৩. ১৯৩৮ | গ. তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত প্রকাশনা |
Matching ৩
| ১. সন্ধ্যাভাষা | ক./গ. চর্যাপদ |
| ২. ব্রজবুলি | খ. বৈষ্ণব পদাবলী |
| ৩. সহজিয়া সাধনা | গ. চর্যাপদ |
Matching ৪
| ১. চর্যাচর্যবিনিশ্চয় | ক. পাণ্ডুলিপি |
| ২. হাজার বছরের পুরাণ... | খ. প্রকাশিত গ্রন্থ |
| ৩. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি | গ. টীকাসংক্রান্ত নাম |
Matching ৫
| হরপ্রসাদ শাস্ত্রী | চর্যাপদ আবিষ্কার |
| মুনিদত্ত | টীকা |
| প্রবোধচন্দ্র বাগচী | তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গবেষণা |
| কাহ্নপা | সর্বাধিক পদ |
Assertion / Statement Questions
১. ১) চর্যাপদ ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। ২) আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। ৩) চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে। — সঠিক কোনটি?
২. ১) লুইপা চর্যার আদি কবি হিসেবে প্রচলিত। ২) কাহ্নপা সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন। ৩) মুনিদত্ত চর্যার আবিষ্কারক। — সঠিক কোনটি?
৩. ১) চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়। ২) চর্যাপদে গূঢ় ও প্রতীকী বক্তব্য রয়েছে। ৩) চর্যাপদের ভাষা সম্পূর্ণ আধুনিক বাংলা। — সঠিক উত্তর?
৪. ১) নেপালি পাণ্ডুলিপিতে ৪৭টি পদ পাওয়া যায়। ২) ৪৬টি পূর্ণ ও একটি খণ্ডিত। ৩) তিব্বতি অনুবাদে ৫০টি পাঠ পাওয়া যায়। — কোনটি সঠিক?
৫. ১) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। ২) মুনিদত্ত টীকাকার। ৩) প্রবোধচন্দ্র বাগচী তিব্বতি অনুবাদ-সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। — সঠিক উত্তর?
📚 চর্যাপদ পড়ার সঠিক কৌশল
শুধু ২০টি তথ্য মুখস্থ করলেই হবে না। নিচের চারটি স্তরে প্রস্তুতি নিন।
স্তর ১ — Fact
মুখস্থ করুন: ১৯০৭ · ১৯১৬ · হরপ্রসাদ · নেপাল · মুনিদত্ত · লুইপা · কাহ্নপা · সন্ধ্যাভাষা
স্তর ২ — Relation
তথ্যগুলো সম্পর্কের মাধ্যমে পড়ুন: হরপ্রসাদ → নেপাল → ১৯০৭ → পাণ্ডুলিপি → ১৯১৬ প্রকাশ
স্তর ৩ — Trap
নিজেকে প্রশ্ন করুন — আবিষ্কারক কে? সম্পাদক কে? টীকাকার কে? তিব্বতি অনুবাদ কার সঙ্গে যুক্ত? আদি কবি কে? সর্বাধিক পদ কার? ৪৭ আর ৫০ কেন আলাদা?
স্তর ৪ — Practice
শেষে MCQ দিন। কারণ BCS-এ একই তথ্যের ভাষা পরিবর্তন করে প্রশ্ন করা হয়।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ কী?
প্রচলিত পরীক্ষামুখী বিভাজনে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
চর্যাপদ।
চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
১৯০৭ সালে।
চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার/রাজগ্রন্থশালা থেকে।
চর্যাপদের ভাষা কী?
পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর সন্ধ্যাভাষা। ভাষাবৈজ্ঞানিকভাবে এটি প্রাচীন পূর্বভারতীয় ভাষার একটি জটিল রূপ, যার মধ্যে প্রাচীন বাংলার বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
সন্ধ্যাভাষা কী?
চর্যাপদের গূঢ়, প্রতীকী ও আংশিক প্রকাশ্য-আংশিক গোপন ভাষারীতিকে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।
চর্যাপদের কবিরা কারা?
তাঁরা মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্য।
চর্যাপদের আদি কবি কে?
প্রচলিত পরীক্ষামুখী উত্তর লুইপা।
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ কার?
কাহ্নপা — প্রচলিত হিসাবে ১৩টি।
চর্যাপদের টীকাকার কে?
মুনিদত্ত।
চর্যাপদ কখন প্রকাশিত হয়?
১৯১৬ সালে।
চর্যাপদ কোন গ্রন্থে প্রকাশিত হয়?
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ কার সঙ্গে যুক্ত?
প্রবোধচন্দ্র বাগচী — তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার/প্রকাশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।
BCS-এ চর্যাপদ থেকে কী কী প্রশ্ন আসে?
সাধারণত আবিষ্কারক, আবিষ্কারের স্থান ও সাল, প্রকাশনার সাল, পাণ্ডুলিপির নাম, ভাষা, সন্ধ্যাভাষা, কবি, আদি কবি, সর্বাধিক পদ, টীকাকার, তিব্বতি অনুবাদ, পদসংখ্যা, শব্দার্থ ও ছন্দ থেকে প্রশ্ন আসে।
Final BCS Study Checklist
এই chapter শেষ করার আগে নিশ্চিত হও:
- প্রাচীন যুগের সময়কাল জানি
- চর্যাপদ কী ও এর গুরুত্ব জানি
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে চিনি — ১৯০৭, নেপালের রাজগ্রন্থশালা মনে আছে
- ১৯১৬ ও প্রকাশিত গ্রন্থের নাম মনে আছে
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয় ও সন্ধ্যাভাষা জানি
- লুইপা, কাহ্নপা (১৩ পদ), মুনিদত্ত, প্রবোধচন্দ্র বাগচী জানি
- ৪৭ বনাম ৪৬½ বনাম ৫০-এর পার্থক্য জানি
- কবির সংখ্যা ২৩/মতান্তরে ২৪ জানি
- চর্যার ধর্মীয় পটভূমি ও গুরুত্বপূর্ণ পদ শনাক্ত করতে পারি
- BCS previous question pattern ও confusing facts revise করেছি
- অন্তত ৩০টি MCQ অনুশীলন করেছি
নিয়মিত Practice-ই সাফল্যের চাবিকাঠি
শুধু একবার পড়ে ফেললেই হবে না — একই তথ্যকে MCQ, Topic Test, Model Test ও Revision Test-এর মাধ্যমে বারবার অনুশীলন করলে পরীক্ষার হলে দ্রুত recall করা সহজ হয়। BCS Exam Aid App-এ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, Daily Test, Subject/Topic Test, Model Test, Revision Test এবং full-syllabus preparation-এর সুযোগ রয়েছে।
📱 BCS Exam Aid অ্যাপ ইনস্টল করুনউৎস ও মতভেদের জায়গা
এই লেখার তথ্য-যাচাইয়ে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়েছে Banglapedia-র Charyapada entry, BPSC-এর প্রকাশিত BCS syllabus, হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ১৯১৬ সালের মূল প্রকাশনার ডিজিটাল কপি/পাঠ, সরকারি শিক্ষক বাতায়নের শিক্ষামূলক উপকরণ, এবং বিভিন্ন BCS প্রশ্নের প্রকাশিত প্রশ্নপত্র/প্রশ্নব্যাংক।
তিনটি বিষয়কে একক, প্রশ্নাতীত তথ্য হিসেবে না দেখে context অনুযায়ী পড়ুন — (১) প্রাচীন যুগের সময়কাল: প্রচলিত উত্তর ৬৫০–১২০০, গবেষকভেদে ভিন্নতা আছে। (২) পদসংখ্যা: নেপালি পাণ্ডুলিপির প্রচলিত পাঠ ৪৭ (৪৬½), তিব্বতি অনুবাদে ৫০। (৩) কবির সংখ্যা: প্রচলিতভাবে ২৩; মতান্তরে ২৪।
